উদ্দেশ্য
আমি ঘরের ভেতরেই, নিজের গলায় বলি
@highlandcalm Narrated by Amy Black 2:58 34 shots
0:00 2:58
কথাটা বলি, আর ঘরটা সেটাকে গুরুত্ব দিয়ে নেয়। জোরে বলেছি বলে নয়, চালাকি করেছি বলেও নয়, বরং সত্যি কথাটা পরিষ্কার করে বলেছি আর তারপর থেমে গেছি বলে। আমার গলা শুনতে আমার গলার মতোই লেগেছে। এটা আবার করব, তারপর আরও এক বার, যত দিন না এটা আর গায়ের জোরে তুলে আনা কিছু বলে মনে হয়। এটা একটা দক্ষতা। এত দিন এটাকে ভাবতাম এমন এক স্বভাব, যা আমার ভাগে পড়েনি।
কেউ একজন কিছু লিখে নিচ্ছে। আধ সেকেন্ডের সেই নীরবতা, যেখানে একটা ভাবনাকে সত্যিই বিবেচনা করা হচ্ছে, ভদ্রতা করে শেষ হওয়ার অপেক্ষা করা হচ্ছে না, আর দুটোই এক বার শোনা হয়ে গেলে বোঝা যায় ওদের শব্দ একেবারেই আলাদা। খেয়াল করি হাত দুটো স্থির, টেবিলের ওপর রাখা, কলম নিয়ে অস্থির কিছু করছে না। উল্টো দিকের একজন ধীরে ধীরে মাথা নাড়ছে, যেটা মানুষ তখনই করে যখন তারা সায় দিচ্ছে না, বরং সঙ্গে সঙ্গে বুঝে উঠছে।
বাক্যটা মুখের ভিতর পুরো তৈরি অবস্থায় নিয়ে গোটা গোটা সভা পার করে দিয়েছি, আর তারপর ছেড়ে দিয়েছি। পরে বাড়ি ফেরার পথে সেটা আবার মনে মনে চালিয়েছি আর শুনেছি নিজেকে নিখুঁত ভাবে বলতে, আর এর নিজস্ব একটা যন্ত্রণা আছে। ওই ঘরে যা ঘটছিল সেটা আত্মবিশ্বাসের সমস্যা ছিল না, আর ওটাকে আত্মবিশ্বাসের সমস্যা ভেবেই বছরের পর বছর আটকে ছিলাম। একই মুহূর্তে বাক্যটা সাজাতে চাইছিলাম আর সাহস জোগাতে চাইছিলাম, আর এই দুটো আলাদা কাজ, যারা একই কয়েক সেকেন্ডের মনোযোগ নিয়ে কাড়াকাড়ি করে। একটাকে হারতেই হত, আর প্রতিবার একই জন হারত। সাহসের ঘাটতি আমার কোনও দিন ছিল না। ঘাটতি ছিল প্রস্তুতির, আর বছরের পর বছর দ্বিতীয়টাকে প্রথমটা বলে ধরে নিয়েছি।
তাই এক সঙ্গে দুটো করতে বলা বন্ধ করেছি নিজেকে। ঘরে ঢোকার আগে বাক্যটা লিখে নিই। একটা বাক্য। কাগজে থাকা মানে সাজানোর কাজটা আগেই শেষ, বাকি থাকে কেবল বলা, আর বলাটা আসলে কোনও দিনই কঠিন অংশ ছিল না। যাকে এত দিন ভয় বলে ডাকতাম, তার বেশির ভাগটাই ছিল ছদ্মবেশ পরা মানসিক বোঝা। বোঝাটা সরিয়ে নিলে যা পড়ে থাকে সেটা এত ছোট যে সোজা হেঁটে পেরিয়ে যাওয়া যায়, আর বছরের পর বছর ওই ছোট জিনিসটাকে চরিত্রের দোষ বলে এসেছি। প্রস্তুতি নেওয়া কোনও অসাধুতা নয়। চাপের মুখে নিজের মতো শোনানোর একমাত্র নির্ভরযোগ্য উপায় আমি এটাই জানি।
তাই পরের সভার আগে বাক্যটা লিখে রাখি। শুধু সেই বাক্যটা যেটা সবচেয়ে বেশি বলা হোক চাই, যেটার জন্য বাড়ি ফেরার পথে গায়ে জ্বালা ধরবে। তারপর ঘরের ভিতর, যেই মুহূর্তে সেটা প্রসঙ্গের ধারেকাছে আসে, ওটাই বলি। কাগজ দেখে পড়ার অনুমতি আছে। সভার ইতিহাসে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য কারও নম্বর কাটা যায়নি, আর ঘরের অর্ধেক মানুষ মনে মনে চাইছে অন্য কেউ আগে মুখ খুলুক।
বাক্যটা ভালো, আর বরাবরই ভালো ছিল। বদলেছে শুধু একটাই জিনিস, এবার সেটা পকেটে করে বাড়ি না ফিরে আমার সঙ্গে ঘর ছেড়ে বেরিয়েছে। ভাবনা থাকা আর ভাবনার দাম আছে এমন একজন হয়ে ওঠা, এই দুইয়ের মাঝের পুরো দূরত্বটা এটাই। বাক্যটা বলে ফেলি।