উদ্দেশ্য
আমি ইচ্ছে করেই কঠিন কিছু শিখছি
@lanterntide Narrated by Adele Rolling 2:50 33 shots
0:00 2:50
বুঝতে পারছি। পুরোটা নয়, কিন্তু এক মাস আগে যে অংশটা একেবারে অস্বচ্ছ ছিল সেটা পরিষ্কার হয়ে গেছে, আর এর পরে কী আসছে তার আকারটা টের পাচ্ছি। মাথার ভিতরে কিছু একটা নিজে থেকে নতুন করে সেজে নিয়েছে, আর সেটা আর আগের জায়গায় ফিরবে না। ছয় সপ্তাহ আগে হলে বলতাম, এই জিনিস ধরার বয়স আমার আর নেই। ওটা আমার ক্ষমতার কোনও বিচার ছিল না। ওটা ছিল বিশ্বাসযোগ্য মুখোশ পরা একটা অজুহাত। পরের অংশটা একই ভাবে না খোলা পর্যন্ত চালিয়ে যাব।
পাতার ধারে নিজের হাতের লেখায় নোট, পাতা যত নিচে নামে লেখাগুলো তত আত্মবিশ্বাসী। ছয় সপ্তাহ আগে যে শব্দটা ব্যবহার করতে পারতাম না, সেটা এখন নিছক একটা শব্দ যা ব্যবহার করি, থেমে যাচাই করি না ওটা বলার অধিকার আমার আছে কি না। চল্লিশ নম্বর পাতায় কফির একটা গোল দাগ আছে, যেটার প্রতি অদ্ভুত এক মায়া জন্মেছে। বইটা এখন মালিকানার জিনিসের বদলে ব্যবহারের জিনিস হয়ে উঠছে।
শুরুটা অহংকার ভেঙে দিয়েছিল। আমি ধীর ছিলাম, আর ধীর ছিলাম অন্যদের সামনে, আর বড় বয়সে নতুন করে শিক্ষানবিশ হওয়ার মধ্যে এক বিশেষ অস্বস্তি আছে যার কথা কেউ আগে থেকে বলে দেয় না। কোনও কোনও সন্ধ্যায় নিজের ওপর সত্যিকারের বিরক্ত হয়ে বই বন্ধ করেছি। আসলে যেটা টের পাচ্ছিলাম সেটা আমার রুচি আর আমার ক্ষমতার মাঝের ফাঁক, আর সেই ফাঁকটা সবচেয়ে চওড়া থাকে একেবারে শুরুতে, ঠিক যে সময়টায় বেশির ভাগ মানুষ ওটাকে প্রমাণ হিসেবে পড়ে নেয় যে এই কাজের জন্য তারা তৈরিই হয়নি। অস্বস্তিটা কোনও রায় ছিল না। ওটা ছিল একটা কর, আর বছরের পর বছর করটাকে রায় বলে ভুল করেছি। কেউ যদি শুরুতেই কথাটা বলে দিত। তাই এখন নিজেকেই বলছি, জোরে, যেন নিজের কানে যায়।
তারপর খেয়াল করলাম, ধন্দটার একটা ধরন আছে। প্রতিবার, একটিও ব্যতিক্রম ছাড়া, মাথায় কিছু একটা খুলে যাওয়ার ঠিক আগেই ওটা আসত। ধন্দ ব্যর্থ হওয়ার শব্দ নয়, ওটা ভিতরের ছবিটা নতুন করে গড়ে ওঠার শব্দ, আর যেদিন দুটোকে আলাদা করে চিনতে পারলাম, সেদিন থেকে ওটার সামনে থেকে পালানো বন্ধ করলাম। কেউ কোনও দিন বলেনি যে কোনও কিছুতে খারাপ হওয়ার অনুভূতি আর কোনও কিছুতে ভালো হয়ে ওঠার অনুভূতি ভিতর থেকে একই অনুভূতি। এখন যখন নিজেকে বোকা লাগে, তখন সেটাকে প্রমাণ ধরি যে ঠিক জায়গাতেই আছি, আর নিজের ভিতরে এই অভ্যাসটা গড়ে তোলা অদ্ভুত এক কাজ এবং জীবনে করা সবচেয়ে কাজের কাজ।
তাই আজ যে অংশে সবচেয়ে দুর্বল, সেটায় পনেরো মিনিট দিই। যে অংশটা উপভোগ করি সেটায় নয়, আর যে অংশটা এর মধ্যেই ভালো পারি এবং যেটা কোনও দাম না নিয়েই বসাটাকে ফলপ্রসূ মনে করায়, সেটাতেও নয়। যে অংশটায় নিজেকে মন্থর লাগে, সেটায়। ঘড়ি বসাই, কারণ না হলে পনেরো মিনিটকে দরাদরি করে চার মিনিটে নামিয়ে আনব, অথচ কোনও দিন স্বীকার করব না যে সেটাই করছি। পনেরো মিনিট ধরে ওটায় খারাপ হওয়াই পুরো কাজ।
আমি এখন এমন একজন মানুষ যে কঠিন জিনিস শেখে। দ্রুত নয়, সুন্দর ভাবেও নয়। কিন্তু থেকে যাই, আর দেখা যাচ্ছে থেকে যাওয়াটাই পুরো দক্ষতা। যারা এই কাজে ভালো, তারা আমার চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান নয়। তারা শুধু আরও বেশি দিন ধরে এতে খারাপ ছিল।