Skip to content

উদ্দেশ্য

যে প্রশ্নে ভয় পাই, সেটা করি

@warmmonsoon Narrated by Nina Good 2:16 28 shots

0:00 2:16

জিজ্ঞেস করে ফেলেছি। তিন সপ্তাহ ধরে যে প্রশ্নটার চারপাশে ঘুরছিলাম, সেটা এখন ঘরের ভিতরে বেরিয়ে এসেছে আর ঘরটা দিব্যি ঠিক আছে। কিছুই ভাঙেনি। ওই চারপাশে ঘোরাটাই ছিল দামি অংশ, জিজ্ঞেস করতে প্রায় নয় সেকেন্ড লেগেছে, আর বছরের পর বছর এই লেনদেনটাই করেছি আর ওটাকে সাবধানতা বলে ডেকেছি। পরেরটা আরও তাড়াতাড়ি হবে।

ওটার ওপারে একটা থেমে যাওয়া। খারাপ ধরনের নয়। এমন ধরনের, যেখানে একজন মানুষ উত্তর সাজানোর বদলে সত্যিই ভাবছে। তার পিছনে কোথাও একটা চেয়ার সরে গেল। চোয়ালটা আলগা হয়ে গেছে, আর ওটা যে আটকে ছিল সেটা জানতামই না।

জিজ্ঞেস না করাটাকে বেশি নিরাপদ মনে হত। ওটা নিরাপদ ছিল না, ওটা ছিল বেশি চুপচাপ, আর ওই চুপচাপ থাকার দাম দিয়েছি সপ্তাহের পর সপ্তাহ আন্দাজ করে, এমন একটা জিনিস নিয়ে যেটা একটা বাক্যে বিনা খরচেই পেয়ে যেতে পারতাম। উত্তরের অভাবে যে রূপটা বানিয়েছিলাম, সেটা যা সত্যি বলে প্রমাণ হল তার চেয়ে বেশি খুঁটিনাটিতে ভরা আর বেশি আত্মবিশ্বাসী ছিল, আর অনেকটা বেশি খারাপও, কারণ একটা ফাঁক পেলে মন এই কাজটাই করে। ওটা ফাঁকটাকে খালি রাখে না। ওটা বাজে ভাবে ভরাট করে, তারপর সেই ভরাটটাকেই প্রমাণ বলে ধরে নেয়। ওখানে যা বসায় তা আমারই হাতের লেখায় লেখা, আর ঠিক এই কারণেই সূত্রটা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কথা কোনও দিন মাথায় আসে না।

সত্যিকারের যে কোনও উত্তরের দাম, উত্তর ছাড়া নিজে যে গল্পটা সাজাই তার চেয়ে বেশি। যে উত্তরটা চাইনি সেটাও হাতে শক্ত কিছু একটা ধরিয়ে দেয়, আর অপছন্দের জমিতে দাঁড়ানোও গত মঙ্গলবার নিজের বানানো জমিতে দাঁড়ানোর চেয়ে ভালো। নিশ্চয়তা কোনও দিনই লক্ষ্য ছিল না। খবরটাই ছিল। একটা খারাপ বাক্য এড়ানোর জন্য তার চেয়ে খারাপ একটা কল্পনার বাক্যের ভিতরে বাস করছিলাম, ঘুরে ঘুরে, বিনা খরচে, দুই সপ্তাহ ধরে।

তাই ওটা সোজা কথায় লিখে ফেলি, আর পরের যে কথোপকথনটা হবে সেখানেই জিজ্ঞেস করি। আগে লেখা, কারণ ওই মুহূর্তে ওটাকে নরম করে এমন কিছুতে বদলে ফেলব যার উত্তর কেউ দিতে পারে না, তারপর নরম করা রূপটার যে উত্তর ফিরে আসবে তাতে চুপচাপ হতাশ হব। লেখাটাই আসল প্রশ্ন। ওটাই জিজ্ঞেস করা হয়, ওই শব্দগুলোতেই, নিজের সুবিধার জন্য যে লম্বা ভূমিকাটা বানাতাম সেটা ছাড়াই।

জিজ্ঞেস করা হল, উত্তর এল, আর আন্দাজ করা শেষ। নিজের বানানো উত্তরের একটা স্তূপের বদলে সত্যিকারের একটা উত্তর নিয়েছি, আর যা কিছু বানিয়েছিলাম তার সবের চেয়ে সত্যিকারেরটা ছোট ছিল। ওই নীরবতাটা আর কিনব না।