দ্রুত পরামর্শ
- নব্বই মিনিট চালান, তাতে একটা স্পষ্ট ফলাফল রাখুন।
- ফোনটা অন্য ঘরে রাখুন, উপুড় করে নয়।
- এলোমেলো সপ্তাহ মানে একটা সপ্তাহই, কোনো রায় নয়।
আপনি নিজের কাজে ভালো, আর সেই অংশটায় আরও ভালো হতে চান যেখানে আসলে মাথা খাটাতে হয়। জবাব দেওয়া নয়, টিকিট সামলানো নয়। আসল কাজ: নকশা, বিশ্লেষণ, লেখা, সেই জিনিসটা যা শুধু আছে কারণ কেউ বসে সেটা বানিয়েছে।
বইটা আপনি পড়েছেন। যুক্তিটাও জানেন। সকালের চার ঘণ্টার ব্লক চেষ্টা করেছেন, আর সেটা নয় দিন টিকেছিল, তারপর একটা লঞ্চ, স্কুলে বাচ্চা পৌঁছে দেওয়া আর একটা ছোট্ট প্রশ্ন সেটাকে ভেঙে দিয়েছে। বেশিরভাগ মানুষ এখান থেকে সিদ্ধান্তে আসে যে তারা এই কাজ পারার মতো মানুষই না, আর এই সিদ্ধান্তটার দাম তাদের কয়েক বছর।
চার ঘণ্টার ব্লক আসল প্রক্রিয়া নয়। প্রক্রিয়াটা হলো একাগ্রতা, আর সেটা আসে সেই বিখ্যাত সংস্করণটা যতটা বোঝায় তার চেয়ে অনেক ছোট পাত্রে। নব্বই মিনিট, একটা স্পষ্ট ফলাফল নিয়ে, যেসব দিনে আপনার সপ্তাহে সেটুকু জায়গা থাকে, সারা বছরে সেই সন্ন্যাসীর মতো সকালের চেয়ে বেশি আসল কাজ দেয়, যেটা আপনি মাত্র নয় দিন ধরে রাখতে পারেন।
আমার ক্যালেন্ডার মিটিংয়ে ভর্তি থাকলেও কি ডিপ ওয়ার্ক করা যায়?
হ্যাঁ, আর যেটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা হলো আপনার কত ঘণ্টা মিটিং আছে তা নয়, বরং সেগুলোর মাঝের ফাঁকগুলো কতটা পরিষ্কারভাবে সুরক্ষিত থাকে। তিনটে মিটিং আর একটা অক্ষত নব্বই মিনিটের ফাঁক থাকা দিন হলো ডিপ ওয়ার্কের ভালো দিন। তিনটে মিটিং আর ছয়টা ছড়ানো-ছিটানো পনেরো মিনিটের ফাঁক থাকা দিন তা নয়, যোগফল যা-ই বলুক না কেন।
কারণটা হলো কাজ বদলানোর খরচ। কোনো কাজ শেষ করার আগে ছেড়ে দিলে, আপনার মনোযোগের একটা অংশ সেখানেই থেকে যায়, আর পরের কাজটা পায় আপনার একটা কমতি সংস্করণ। Sophie Leroy এর নাম দিয়েছেন attention residue, মনোযোগের অবশিষ্টাংশ, আর এটা এমন একটা জিনিস ব্যাখ্যা করে যা মানুষ সবসময় ভুল বোঝে। দুটো মিটিংয়ের মাঝের পনেরো মিনিট কাজের পনেরো মিনিট নয়, ওটা পৌঁছানোর পনেরো মিনিট।
তাই চার ঘণ্টা খোঁজা বন্ধ করুন, আর একটা পরিষ্কার ফাঁক খুঁজতে শুরু করুন। আগামীকালের দিকে তাকান, সবচেয়ে লম্বা বিরতিহীন সময়টুকু খুঁজে বের করুন, আর সেশনটা সেখানেই বসান। সবচেয়ে লম্বা অংশটা যদি পঞ্চাশ মিনিটের হয়, তাহলে পঞ্চাশ মিনিটই নিন। আপনি যে দক্ষতাটা তৈরি করছেন সেটা হলো দ্রুত কাজে ঢুকে পড়া, আর এই দক্ষতা বাড়ে বারবার করার মাধ্যমে, সময়ের দৈর্ঘ্যের মাধ্যমে নয়।
এখান থেকে একটা সময়সূচির কৌশল বেরিয়ে আসে, যেটার জন্য সামান্য অস্বস্তি সহ্য করার মতো। আপনার মিটিংগুলো সারাদিন ভদ্রভাবে ছড়িয়ে না দিয়ে একটার পর একটা লাগিয়ে দিন। চারটে মিটিং এক সঙ্গে হলে তার পেছনে একটা বড় ফাঁক থেকে যায়। একই চারটে মিটিং সমানভাবে ছড়ানো থাকলে আপনার হাতে শুধু পৌঁছানোর সময়টুকুই থাকে। বেশিরভাগ ক্যালেন্ডার একবার বললেই এই বদলটা মেনে নেয়, আর প্রায় কেউই বলে না।
একটা সেশন আসলে কতক্ষণের হওয়া উচিত?
নব্বই মিনিট হলো এখানকার কাজ চালানোর মতো ডিফল্ট মান, নিচের সীমা প্রায় পঁয়তাল্লিশ মিনিট আর ওপরের সীমা প্রায় দুই ঘণ্টার কাছাকাছি। একটা সেশনকে গণ্য করার মতো করে তোলে তার দৈর্ঘ্য নয়, বরং শুরু করার আগে আপনি একটা ফলাফল ঠিক করে নিয়েছিলেন কিনা।
এই একটামাত্র নির্দেশ বেশিরভাগ কাজটা করে দেয়। রিপোর্ট নিয়ে কাজ করা নয়, বরং রিপোর্টের দ্বিতীয় অংশটা শেষ করা। অনুশীলন নয়, বরং মিনিটে নব্বই বিট গতিতে সেই রূপান্তরটা পরিষ্কার করে ফেলা। নির্দিষ্ট করা ফলাফল ঘুরঘুর করার পর্বটা শেষ করে দেয়, একটা স্পষ্ট প্রথম পদক্ষেপ দেয়, আর শেষে বলে দেয় সেশনটা আসলেই হয়েছিল কিনা। সেশন শুরু হওয়ার আগেই ফলাফলটা লিখে রাখুন, পরে নয়।
পঁয়তাল্লিশ মিনিটের চেয়ে ছোট সেশনও নেওয়ার যোগ্য। শুধু সেগুলোকে আরও ছোট কিছুর দিকে তাক করতে হবে: একটা অনুচ্ছেদ, একটা চিত্র, একটা অংশ। ভুলটা ছোট সেশনে নয়, ভুলটা হলো নব্বই মিনিটের ফলাফল তিরিশ মিনিটের ব্লকে বসিয়ে দেওয়া আর শেষে দেখানোর মতো কিছু না পাওয়া। এমন কয়েকবার হলে আপনি শিখে যান যে এই অভ্যাসটা কাজ করে না, অথচ আসলে যা ঘটেছিল তা হলো লক্ষ্যের মাপটাই ভুল ছিল।
তারপর ইমেইলে গড়িয়ে না পড়ে একটা আসল বিরতি নিন। মাইক্রো-ব্রেক নিয়ে একটা মেটা-বিশ্লেষণে দেখা গেছে সেগুলো নির্ভরযোগ্যভাবে সতেজতা বাড়ায় আর ক্লান্তি কমায়, অথচ কাজের ফলাফলের ওপর প্রভাব ছিল ছোট আর সার্বিকভাবে পরিসংখ্যানগত তাৎপর্য পায়নি, আর লম্বা বিরতি ছোট বিরতির চেয়ে বেশি কাজ করেছে। এটা আশাবাদের বদলে সততার সঙ্গে পড়ুন: সেশনের পরের হাঁটাটা আপনার শক্তির জন্য, আর সত্যিকারের ক্লান্তিকর নব্বই মিনিটের পর দশ মিনিট সম্ভবত যথেষ্ট নয়।
ফোনটা কোথায় রাখবেন?
অন্য ঘরে, ডেস্কে উপুড় করে নয়। University of Texas at Austin এর গবেষকরা প্রায় ৮০০ জন স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর ওপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন, যাদের ফোন অন্য ঘরে ছিল তারা যাদের ফোন ডেস্কে উপুড় করে রাখা ছিল তাদের চেয়ে অনেক ভালো করেছেন, অথচ সবার ফোনই সাইলেন্ট মোডে ছিল আর কেউই নিজের ফোন ব্যবহার করছিলেন না।
এটা মন দিয়ে পড়ুন, কারণ এই লেখার সবচেয়ে কাজের তথ্য এটাই। খরচটা নোটিফিকেশনের ছিল না। খরচটা ছিল জিনিসটার উপস্থিতির, আর তার দিকে হাত না বাড়ানোর সেই ছোট্ট, লাগাতার চেষ্টার। উপুড় করে রাখলে সেটা ঠিক হয় না। সাইলেন্ট করলেও ঠিক হয় না। দূরত্বই ঠিক করে।
এটা পাঁচ সেকেন্ডের একটা বদল, যার আসল রিটার্ন আছে, আর সেটাই একে আপনার হাতে থাকা সবচেয়ে লাভজনক পদক্ষেপ করে তোলে। ফোনটা রান্নাঘরে রাখুন, দরজা বন্ধ করুন, আর সেশনটাকে আপনার পুরোটা নিতে দিন। টাইমার লাগলে এমন একটা টাইমার নিন যেটা ফোন নয়।
একটা সপ্তাহ এলোমেলো হয়ে গেলে কী হয়?
কিছুই হয় না। এলোমেলো একটা সপ্তাহ মানে একটা সপ্তাহই, কোনো রায় নয়, আর এই পুরো ব্যাপারে সবচেয়ে দামি বিশ্বাসটা হলো এই ধারণা যে যে অভ্যাস আপনি মাঝপথে থামিয়েছেন সেটা মানে আপনি ব্যর্থ হয়েছেন।
সপ্তাহ ভালো কারণেই এলোমেলো হয়। একটা লঞ্চ, একটা অসুস্থ বাচ্চা, একটা কোয়ার্টার যা আপনার সব কেড়ে নিয়েছে। যে মানুষ এখান থেকে এক দশক পায়, সে সেই মানুষ নয় যার সপ্তাহ কখনো এলোমেলো হয় না। সে সেই মানুষ, যে সোমবার আগে নিজের বিচার না বসিয়েই আবার শুরু করে। চারটে সেশন মিস করলে খরচ হয় চারটে সেশন। আপনি এই কাজ পারার মতো মানুষ নন, এমন সিদ্ধান্ত নিলে খরচ হয় পরের দুই বছর।
আবার শুরু করার মানদণ্ডটা খুব নিচু রাখুন: একটা সেশন, একটা ফলাফল, একটা পরিষ্কার ফাঁকযুক্ত প্রথম দিনটাতেই। আবার শুরু করা মানে নতুন করে শুরু করা নয়, আর এর জন্য নতুন কোনো সিস্টেমও লাগে না। এটা একই অভ্যাস, শুধু আবার তুলে নেওয়া।
এই নিয়মটা আগে থেকে ঠিক করে রাখুন, কোনো ভালো সপ্তাহে, যখন আপনি নিজের সঙ্গে দরকষাকষি করছেন না। এমন জায়গায় লিখে রাখুন যেখানে খুঁজে পাবেন: যেকোনো বিরতির পরে, পরের সেশনটা হবে নব্বই মিনিটের, একটা ছোট ফলাফল নিয়ে, আর সেটা হবে একটা পরিষ্কার ফাঁকযুক্ত প্রথম দিনেই। আগে থেকে ঠিক করা নিয়ম খারাপ মেজাজেও টিকে থাকে। দুটো এলোমেলো সপ্তাহের পরের সকালে নেওয়া সিদ্ধান্ত প্রায় কখনোই টেকে না।
নব্বই মিনিটের সেশন একটা কঠিন সেশন
এখানে কোথাও কম করার কথা বলা হয়নি। কড়া নিয়ম ছাড়া মানে আচার-অনুষ্ঠান ছাড়া, তীব্রতা ছাড়া নয়, আর ঠিকভাবে চালানো নব্বই মিনিট ব্রাউজার খোলা রেখে চেয়ারে বসে থাকা চার ঘণ্টার চেয়ে বেশি দাবি করে।
সেই সেশনের ভেতরে আপনি কাজ করছেন আপনার এখনকার সামর্থ্যের একদম কিনারায়, একটা নির্দিষ্ট ফলাফল নিয়ে, ফোন অন্য ঘরে, আর আপনার মনোযোগ পাওয়ার মতো আর কিছু নেই। শেষে এসে আপনি সেটা টের পাবেন। আর এটা একটা সাধারণ কোয়ার্টারের একটা সাধারণ বুধবারেও করা যায়, আর এই বৈশিষ্ট্যটাই ঠিক করে দেয় দশ বছর পর কে এই কাজে এখনো ভালো থাকবে।
যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রথমে আপনাকে চার ঘণ্টার ব্লক চেষ্টা করিয়েছিল, তাকে সম্মান করুন। তারপর আগামীকালের সবচেয়ে বড় ফাঁকে একটা নব্বই মিনিটের সেশন বসিয়ে দিন, আজ রাতেই তার ফলাফল ঠিক করে নিন, আর ফোনটা রান্নাঘরে রেখে দিন।
সূত্র
- Sophie Leroy, Why is it so hard to do my work? The challenge of attention residue when switching between work tasks (Organizational Behavior and Human Decision Processes)
- The University of Texas at Austin, The Mere Presence of Your Smartphone Reduces Brain Power, Study Shows
- National Institutes of Health, PubMed Central, "Give me a break!" A systematic review and meta-analysis on the efficacy of micro-breaks for increasing well-being and performance
- Harvard Business Review, Your Team's Time Management Problem Might Be a Focus Problem