দ্রুত পরামর্শ
- আপনার আর অভ্যাসের মাঝের পদক্ষেপ গুনুন। লিখে রাখুন।
- বাক্স থেকে বের করে রাখুন। তুলে রাখা চুপচাপ অভ্যাস মেরে ফেলে।
- যা কম চান, তার সামনে একটা বাধার পদক্ষেপ যোগ করুন।
একটা গিটার বিছানার নিচে পড়ে আছে, তার বাক্সে, চার মাস ধরে। যার গিটার, সে মিথ্যা বলছে না যখন সে বলে যে আরও বাজাতে চায়। সে ইচ্ছে করেই কিনেছিল, হাতে নিয়ে ভালো লেগেছিল, আর আজও সে নিজেকে কল্পনা করতে পারে, দুই বছর পর ভালো বাজাচ্ছে এমন একজন হিসেবে। ইচ্ছেটা সত্যি, আর পরিকল্পনাটাও ঠিকঠাক। শুধু গিটারটা এগারো পা আর একটা চেইনের দূরত্বে, আর রাত নয়টায় এগারো পা যতটা কাছে শোনায়, তার চেয়ে অনেক দূরে।
শৃঙ্খলার পুরো জগতে এটাই সবচেয়ে সস্তা সমাধান, আর এটা প্রায় পুরোপুরি শরীরের ব্যাপার। শৃঙ্খলা মূলত জায়গা-জমিনের ব্যাপার। জিনিসটা সরান, আচরণও তার সঙ্গে সরে যাবে। যে মানুষ প্রতিদিন অনুশীলন করে, তার সাধারণত ভালো চরিত্র থাকে না, ভালো তাক থাকে। নিচে যা লেখা আছে, তার কোনোটাই আপনাকে বলছে না আরও বেশি চাইতে, কারণ আপনি তো এমনিতেই চান।
আমার আর অভ্যাসের মাঝে কতটা পদক্ষেপ থাকা উচিত?
তিন বা তার কম, আপনি সত্যিই যেখানে বসে থাকেন সেখান থেকে প্রথম আসল কাজ পর্যন্ত সৎভাবে গুনে। তিনের বেশি হলে অভ্যাসের প্রতিবার নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, আর সিদ্ধান্তই সবচেয়ে দামি অংশ।
এখনই ঠিকমতো গুনুন, জোরে জোরে। ওঠা হলো এক। শোবার ঘরে হাঁটা হলো দুই। হাঁটু গেড়ে বসা, বাক্স টেনে বের করা, চেইন খোলা, গিটার তোলা, একটা পিক খোঁজা, সুর মেলানো: এই অভ্যাসটা আটটা পদক্ষেপের পেছনে বসে আছে। এবার তুলনা করুন এমন এক গিটারের সঙ্গে, যেটা দাঁড় করানো আছে আপনি যে চেয়ারে এমনিতেই বসেন তার পাশে, সুর মেলানো, পিকটা চেয়ারের হাতলে রাখা। একই মানুষ, একই ইচ্ছে, একই সন্ধ্যা, তবু সম্ভাবনা পুরো আলাদা।
আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটা অভ্যাসের সংখ্যা লিখে রাখুন। সংখ্যাটাই আসলে রোগ নির্ণয়। চার বা তার বেশি যা কিছু, সেটা মন ভালো হওয়ার অপেক্ষায় থাকা কোনো অনুপ্রেরণার সমস্যা নয়। এটা দশ মিনিটের গোছগাছের অপেক্ষায় থাকা একটা ব্যবস্থাপনার সমস্যা, আর দশ মিনিট এমন এক মূল্য যা আপনি আজ রাতেই দিতে পারেন।
এবার একই গণনা উল্টো দিকেও করুন, এখন যা জিতে চলেছে তার জন্য। ফোন আছে শূন্য পদক্ষেপে, কারণ সেটা আপনার হাতেই। টিভি আছে দুই পদক্ষেপে। যে কাজটা আপনি করব করব করেই চলেছেন, সেটা আছে আট পদক্ষেপে। লম্বা একটা দিনের শেষে কেউই এই তিনটার মধ্যে ভালো-মন্দ বিচার করে বেছে নেয় না। মানুষ যেটা সবচেয়ে কাছে, সেটাই বেছে নেয়, আর পরে নিজের কাছে সেই বাছাইকে চরিত্রের ভাষায় ব্যাখ্যা করে।
জিনিসটা সরালে আমি যা করি তা কেন বদলে যায়?
কারণ সাধারণ দিনগুলোতে হাতের কাছে থাকাটা উদ্দেশ্যকে হারিয়ে দেয়। ২৪টা পরীক্ষার ওপর করা ২০১৯ সালের একটা Cochrane পর্যালোচনায় দেখা গেছে, খাবার দূরে রাখলে মানুষ কম খায়, আর এর লেখকরা নিজেরাই এই প্রমাণের নিশ্চয়তাকে কম বলে চিহ্নিত করেছেন।
এটাকে আপনার গিটার নিয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি হিসেবে না দেখে প্রক্রিয়াটার একটা প্রদর্শনী হিসেবে দেখুন। ওই পরীক্ষাগুলোর প্রতিটাই হয়েছিল কোনো দোকান, ক্যান্টিন বা গবেষণাগারে, বসার ঘরে নয়, আর প্রতিটাই ছিল খাবার নিয়ে, কারণ পর্যালোচকরা অন্য কিছু নিয়ে ব্যবহারযোগ্য কোনো পরীক্ষা খুঁজে পাননি। তবু সেখানে যে হাতিয়ারটা পরীক্ষা করা হয়েছিল, সেটাই এখন আপনি টানছেন। এর সঙ্গে জড়িত আরেকটা পর্যালোচনা, যাকে এর লেখকরা "ক্ষুদ্র-পরিবেশ" বলে ডাকেন, সেটা যুক্তি দেয় যে কোনো জিনিস কোথায় রাখা আছে তা আচরণের ওপর বেশিরভাগ সময় স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রভাব ফেলে, মানুষটিকে ভাবতে বলার দরকার হয় না।
এটা ভালো খবর, কারণ একই শক্তি আপনি যেদিকে ফেরান, সেদিকেই বয়ে চলে। সকাল সাতটার আপনি বিছানার নিচের একটা বন্ধ বাক্সের সঙ্গে তর্কে জিততে পারবেন না। কিন্তু ঠিক সেই আপনিই একটা গিটার হাতে তুলে নেবেন, যা আগে থেকেই তার হাতের নাগালে আছে।
আমার প্রথমে কী সরানো উচিত?
আপনি যেটা ব্যবহার করতে চান, প্রথমে সেটা সরান, তারপর তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা বাধাটা সরান। এই ক্রমেই, কারণ প্রথমটায় এক মিনিট লাগে আর বেশিরভাগ ফলাফল সেটাই এনে দেয়।
জুতো দরজার কাছে, আলমারিতে নয়। পানির বোতল গতরাতে ভরে কাউন্টারে দাঁড় করানো। কেটলবেল এমন একটা ঘরের কোণে যেখান দিয়ে আপনি হেঁটে যান, গ্যারেজে নয়। বই বালিশের ওপর। গিটার একটা স্ট্যান্ডে। খাতা খোলা, তার ওপরে কলম রাখা। জিনিস তুলে রাখাটাই সেই জায়গা যেখানে অভ্যাসরা ভুলে যাওয়ার জন্য চলে যায়, আর একটা বাক্স, একটা ড্রয়ার বা উঁচু একটা তাক যতই গোছানো দেখাক না কেন, সেটা তুলে রাখাই থেকে যায়।
তারপর ছোট ছোট কাজগুলো আগেভাগেই সেরে ফেলুন। আজ রাতেই গিটারের সুর মিলিয়ে রাখুন। ঘড়ি চার্জ দিন। ব্যাগ গুছিয়ে সেখানে রাখুন যেখানে আপনার পা যাবে। এর কোনোটাই দেখতে চোখ ধাঁধানো নয়, আর ঠিক এই কারণেই এটা কাজ করে, কারণ এর কোনোটাই আপনার কাছে চায় না যে আগামীকাল সকালে আপনি অন্য কেউ হয়ে যান।
যে জিনিসটা আমি কম চাই, সেটাকে কীভাবে আরেকটু নাগালের বাইরে রাখব?
তার সামনে একটা বাধার পদক্ষেপ রাখুন, আর সম্ভব হলে আপনার আর সেটার মাঝখানে একটা সত্যিকারের জিনিস রাখুন। সাধারণত একটা পদক্ষেপই যথেষ্ট, কারণ যে হিসাব আপনাকে গিটার হাতে নিতে বাধা দেয়, সেই একই হিসাব আপনাকে ফোন হাতে নিতেও বাধা দেয়।
সারারাত ফোন অন্য ঘরে চার্জে রাখুন। অ্যাকাউন্ট থেকে লগ আউট করুন। হোম স্ক্রিন থেকে অ্যাপটা সরিয়ে দিন, যাতে সেটা খুলতে একটা সার্চ করার খরচ লাগে। নাশতা রাখুন উঁচু তাকে আর ফল রাখুন চোখের সমান উচ্চতায়। এর কোনোটাই মনের জোর নয়, আর কোনোটাই শাস্তিও নয়। এটা শুধু খরচটাকে প্রলোভনের মুহূর্ত থেকে, যখন আপনি সবচেয়ে দুর্বল থাকেন, সরিয়ে নিয়ে যায় একটা শান্ত সন্ধ্যায়, যখন আপনি সেরকম দুর্বল থাকেন না।
এখানে একটা তথ্য জেনে রাখার মতো। ২০২৩ সালের একটা গবেষণায় দেখা গেছে, ৪২ জন শিক্ষার্থী একটা মৌলিক মনোযোগ পরীক্ষায় কম নম্বর পেয়েছিল যখন তাদের নিজের বন্ধ করা স্মার্টফোনটা পাশের টেবিলে পড়ে ছিল, তার তুলনায় যখন সেটা সেখানে একদমই ছিল না। ফোনটা অন্য কোথাও রেখে দেওয়া কোনো মহৎ কাজ নয়। এটা শুধু একটা বাধার পদক্ষেপ, যা আপনার মনোযোগের একটা অংশ ফিরিয়ে কিনে দেয়, সেই সময়টার জন্য যেটা আপনি রক্ষা করার চেষ্টা করছেন।
আমার জায়গা ছোট হলে বা ভাগাভাগি করা হলে কী করব?
তাহলে পুরো একটা ঘরের বদলে একটা পাত্র ব্যবহার করুন, আর গোটা একটা কোণের বদলে হাতের তালুর সমান জায়গা দাবি করুন। দরজার কাছে গুছানো একটা ব্যাগ, তাকের ওপর একটা জুতোর বাক্স, টেবিলের ওপর একটা ট্রে: একটা অভ্যাসের একটা জায়গা লাগে, আর সেই জায়গা খুব ছোটও হতে পারে।
কারও সঙ্গে ভাগাভাগি করা বাসায়, ব্যবস্থাটা জোরে বলে দিন, যাতে অন্যদের মাঝেও সেটা টিকে থাকে। গিটার স্ট্যান্ড থাকবে এখানে। মাদুরটা থাকবে এই চেয়ারের নিচে। এই হুকটা জিম ব্যাগের জন্য। জায়গাটাই সেই অংশ যেটা এক মাসের মধ্যে চুপচাপ পুরনো জায়গায় ফিরে যায়, আর সবচেয়ে দ্রুত ফিরে যায় তখনই, যখন অন্য কেউ জানতোই না যে এটা আসলে একটা সিদ্ধান্ত ছিল।
আপনি যদি ভ্রমণ করেন, নিয়মটা সঙ্গে নিয়ে যাওয়া যায় এমন হয়ে যায়। জিনিসটা ব্যাগে যায় সবার আগে, সবার শেষে নয়: একটা রেজিস্ট্যান্স ব্যান্ড, একটা পেপারব্যাক বই, একটা খাতা, সেই জিনিসেরই ছোট সংস্করণ। যে অভ্যাস কোনো ভ্রমণে টিকে থাকে, সেটা সেই অভ্যাস যার ভ্রমণ শুরুর আগেই স্যুটকেসের ভেতরে একটা জায়গা ছিল।
যেসব দিনে অনুপ্রেরণা টেকে না, সেসব দিনে জায়গা-জমিনই টিকিয়ে রাখে
আপনি তো এমনিতেই এটা চান। যে মানুষ মাসের পর মাস একটা সত্যিকারের লক্ষ্য বয়ে বেড়াচ্ছে, তার আরেকটা বক্তৃতা দরকার নেই কেন সেটা চায় তা নিয়ে, আর এই লেখাটা সেটা দেওয়ারও চেষ্টা করবে না। তার যা দরকার তা হলো, ভালো কাজটা যেন ঘরের সবচেয়ে সহজ কাজ হয়ে যায়, যাতে তার সাধারণ মঙ্গলবারের সংস্করণটা, ক্লান্ত, একটা কঠিন দিনের আট ঘণ্টা পেরিয়ে আসা অবস্থায়, তবুও সেটা করে ফেলে আর প্রায় টেরই পায় না যে সে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
আজ রাতেই একবার গোছগাছটা করে ফেলুন, প্রায় দশ মিনিটে। তারপর আগামী পুরো বছরটার জন্য ঘরটাকেই সেই ভার বইতে দিন, আর আপনার পরিশ্রমটা সেখানে দিন যেখানে সেটার জায়গা, মানে অনুশীলন করবেন কি না তা নিয়ে তর্কে নয়, অনুশীলনেই। এভাবেই একজন মানুষ আরও জোরে চেষ্টা করে আর বেশিদিন টিকে থাকে, আর এর শুরু হয় একটা জিনিসকে একটা বাক্স থেকে বের করে আনা দিয়ে।
সূত্র
- Cochrane Database of Systematic Reviews (via PubMed Central), Altering the availability or proximity of food, alcohol, and tobacco products to change their selection and consumption
- BMC Public Health (via PubMed Central), Altering micro-environments to change population health behaviour: towards an evidence base for choice architecture interventions
- Scientific Reports (via PubMed Central), The mere presence of a smartphone reduces basal attentional performance