যাঁর সঙ্গে একসঙ্গে শুরু করেছিলেন, তিনি এই সপ্তাহে বড় একটা খবর ঘোষণা করেছেন, আর আপনি সেই ঘোষণাটা চারবার পড়ে ফেলেছেন। হিংসা থেকে নয়। আপনি খুঁজছিলেন সেই অংশটা যা ব্যাপারটা বুঝিয়ে দেয়, যে বাক্যটা বলে কীভাবে। সেটা ওখানে ছিল না, কারণ ঘোষণায় ওটা কোনোদিন থাকে না।
তাড়নাটা ধরে রাখুন। নিজের চেয়ে এগিয়ে থাকা কারও দিকে গভীরভাবে তাকানোর ইচ্ছেটা চরিত্রের কোনো ত্রুটি নয়, যাকে কৃতজ্ঞতার অনুশীলন দিয়ে সামলাতে হবে। কী সম্ভব আর এরপর কী করতে হবে, মানুষ সাধারণত এভাবেই সেটা বুঝে নেয়। আর উচ্চাকাঙ্ক্ষী মানুষেরা এটা বেশি করেন ঠিক এই কারণেই যে তাঁরাই সক্রিয়ভাবে নড়তে চাইছেন। সমস্যাটা এই নয় যে আপনি তুলনা করেছেন। সমস্যাটা হলো, আপনি ভুল জিনিসটার তুলনা করেছেন। ফলাফল হলো চোখে পড়া অংশ, আর একই সঙ্গে অকেজো অংশ। পদ্ধতি হলো নকল করা যায় এমন অংশ, আর তার নাগাল পাওয়ার একটা নির্ভরযোগ্য উপায় আছে।
তুলনা করলে সাধারণত খারাপ লাগে কেন?
কারণ আমাদের সহজাত তুলনাটা হলো ফলাফলের সঙ্গে ফলাফলের, আর ফলাফল হলো একটামাত্র সংখ্যা যা কোনো নির্দেশিকা ছাড়াই এসে হাজির হয়। গারবার, হুইলার আর সালস ষাট বছরের সামাজিক তুলনার গবেষণা একত্র করে দেখেছেন, মানুষ বেশিরভাগ সময় নিজের চেয়ে উপরের দিকেই তুলনা করতে বেছে নেয়, আর সাধারণ প্রতিক্রিয়াটা অনুপ্রেরণা নয়, বৈসাদৃশ্যের বোধ। এর প্রভাব সবচেয়ে তীব্র হয় নিজের সামর্থ্য নিয়ে বিচারে আর মেজাজের উপর।
তাই চুপসে যাওয়া অনুভূতিটা পরিসংখ্যানের দিক থেকে স্বাভাবিক ফল, আপনার ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়। এতে এটাও বোঝা যায়, তুলনা করা বন্ধ করুন গোছের চেনা উপদেশটা কেন কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষী মানুষের সামনে টেকে না। তুলনার মধ্য দিয়েই আপনি নিজের মাপ ঠিক করেন, আর মাপ ঠিক করা আপনি বন্ধ করবেন না।
ফলটা বদলে যায় আপনি কী তুলনা করছেন তার উপর। লকউড আর কুন্ডা দেখেছেন, অসাধারণ কেউ তখনই অনুপ্রাণিত করেন যখন তাঁর সাফল্যকে নাগালের মধ্যে মনে হয়, আর নাগালের বাইরে মনে হলে তিনি উল্টে চুপসে দেন। আর এটা ঘটে কেবল সেই ক্ষেত্রেই, যেটা নিয়ে যিনি দেখছেন তিনি নিজে সত্যিই মাথা ঘামান। নাগালে থাকা বা না থাকাটাই এখানে সুইচ। ফলাফলকে সবসময় নাগালের বাইরে মনে হয়, কারণ আপনি তৈরি হয়ে যাওয়া জিনিসটা দেখছেন, সঙ্গে কোনো সিঁড়ি জোড়া নেই। পদ্ধতিকে নাগালের মধ্যে মনে হয়, কারণ সেটা তৈরি হয় সাদামাটা মঙ্গলবারগুলো দিয়ে।
আমি ঠিক কী জিজ্ঞেস করব?
একটাই প্রশ্ন: আমার জায়গায় থাকতে আপনি কী করতেন? তারপর আরও সরু দ্বিতীয় প্রশ্নটা: এটা ঘটার আগের ছয় মাসে আপনি কী করেছিলেন?
এই দুটোই বেশিরভাগ কাজ সেরে দেয়, আর এগুলোর উত্তরও মেলে, কারণ আপনি এমন একটা অংশ নিয়ে জিজ্ঞেস করছেন যা নিয়ে মানুষ গর্বিত অথচ যা নিয়ে কথা বলার সুযোগ তাঁরা প্রায় কখনও পান না। ঘোষণাটা একটা ফলাফল। তার আগের ছয় মাস একটা পদ্ধতি, আর কেউ কষ্ট করে জিজ্ঞেস করলে বেশিরভাগ মানুষ সেটা বিস্তারিত বলে দেবেন।
আরও কয়েকটা প্রশ্ন, যেগুলো দর্শন নয়, নির্দিষ্ট তথ্য বের করে আনে:
- এর জন্য জায়গা করতে আপনি কোন কাজটা করা বন্ধ করেছিলেন?
- কে সাহায্য করেছিলেন, আর সেই মানুষটা আপনাকে চিনলেন কীভাবে?
- সবার প্রথমে কোন জিনিসটা আপনি ভুল করেছিলেন?
- সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে প্রথম চোখে পড়ার মতো ফল পেতে কতটা সময় লেগেছিল?
সরাসরি জিজ্ঞেস করতে না পারলে প্রকাশ্য প্রমাণ থেকে ছবিটা জোড়া লাগান: তাঁরা কী প্রকাশ করেছেন, কোথায় হাজির হয়েছেন, আর কোন ক্রমে। তারিখগুলো দেখুন। কারও সিদ্ধান্ত আর তাঁর ঘোষণার মাঝের দুই বছরের ফাঁকটাই হাতের কাছে থাকা সবচেয়ে উৎসাহজনক তথ্য, আর এটাই সেই অংশ যা ঘোষণা সবসময় বাদ দিয়ে যায়।
তাঁর গোটা জীবন নকল না করে শেখা জিনিসটা কাজে লাগাব কীভাবে?
ঠিক একটামাত্র অভ্যাস তুলে নিন, আর এক মাস ধরে চালান। একটা। এখানে ভুলটা খুব কম চুরি করা নয়। ভুলটা হলো এক সপ্তাহে কারও গোটা কর্মপদ্ধতি নিজের ভেতর তুলে আনা, আর দশ দিনের মাথায় তার সবটা ছেড়ে দেওয়া।
এমন অভ্যাস বাছুন যেটা তিনটে শর্ত মেটায়: এটা আপনার নিজের নিয়ন্ত্রণে, আপনার সবচেয়ে খারাপ দিনেও এটা ছোট মাপে করা যায়, আর চার সপ্তাহের মধ্যেই এটা চোখে পড়ার মতো কিছু তৈরি করে। প্রতি সপ্তাহে কিছু প্রকাশ করা। দিনে একটা করে যোগাযোগের কথোপকথন। ইনবক্স খোলার আগে দু ঘণ্টার চর্চা। তারপর দ্বিতীয় এবং আরও কাজের লাইনটা লিখুন, অর্থাৎ তাঁর যে জিনিসটার পেছনে আপনি ইচ্ছে করেই ছুটছেন না: তাঁর শহর, বছরে দুশো রাত ভ্রমণ করার তাঁর ইচ্ছে, ছুটির দিন গিলে খায় এমন ব্যবসার জন্য তাঁর খিদে। এই লাইনটাই তুলনাকে ট্রেডমিল না বানিয়ে একটা পরিকল্পনায় বদলে দেয়।
তারপর সময়রেখাটা সৎভাবে মিলিয়ে দেখুন। তিনি যদি আট বছর ধরে এই পথে থাকেন আর আপনি দুই বছর, তাহলে ঠিক তুলনাটা হবে তাঁর দ্বিতীয় বছরের সঙ্গে। সেই বছরটা সাধারণত অনেক কম চমকপ্রদ, আর অনেক বেশি কাজের।
তাহলে কি তাঁকে ফলো করা বন্ধ করে দেব?
কখনও কখনও, তবে সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে, তারিখ বেঁধে। একটা ফিড যদি নিয়ম করে আপনার সকালের দুটো ঘণ্টা নষ্ট করে দেয়, তাহলে নিজের একটা অভ্যাস চালানোর মাসটায় সেটাকে চুপ করিয়ে রাখুন। আর অন্য যেকোনো সিদ্ধান্তে যেমন তারিখ বসাতেন, এই নীরবতাতেও তেমনই একটা শেষ তারিখ বসান।
তবে এটা কোনো কৌশল নয়। চুপ করিয়ে দিলে জ্বালাটার সঙ্গে সঙ্গে তথ্যটাও চলে যায়, অথচ ওই তথ্যের জন্যই আপনি প্রথমে তাকিয়েছিলেন। আপনার ঠিক নিজের ক্ষেত্রে আপনার চেয়ে দুই বছর এগিয়ে থাকা একজন মানুষ আপনার পাওয়া সবচেয়ে উঁচু মানের সূত্রগুলোর একটা, বিনামূল্যে, আর তিনি নিজের পদ্ধতি প্রকাশ্যেই জানিয়ে যাচ্ছেন। একটা মঙ্গলবারে একটু ভালো বোধ করার জন্য সেটাকে চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া বড্ড দামি বিনিময়।
ভালো ছাঁকনিটা মানুষ ধরে নয়, বিষয়বস্তু ধরে বাছাই করে। যে অ্যাকাউন্টগুলো চলতি কাজ দেখায় আর কীভাবে করছে তা বুঝিয়ে বলে, সেগুলো রাখুন; যেগুলো কেবল ফলাফল প্রকাশ করে, সেগুলো ছেড়ে দিন। এই ভাগটার সঙ্গে হিংসার কোনো সম্পর্ক নেই, সম্পর্ক পুরোটাই এর সঙ্গে যে আপনি যা পড়ছেন তা নিয়ে কিছু করতে পারবেন কি না।
আর অনুভূতিটা নিয়ে কী করব?
তাঁকে কিছু বলুন, মুখ ফুটে আর নির্দিষ্ট করে, তিনি ঠিক কী করেছেন সেটা নিয়ে। যাঁর সঙ্গে আপনি নিজেকে মাপছেন, তাঁকে আপনার নাম জানেন এমন একজন মানুষে বদলে দেওয়ার এটাই দ্রুততম উপায়, আর খরচ মোটে একটা বাক্য।
নিয়মটা মুখস্থ করে রাখার মতো: ভাসা ভাসা প্রশংসা স্রেফ শব্দদূষণ। কিন্তু কেউ ঠিক কী করেছেন তার নাম ধরে বলা, আর সেটা এমন মানুষদের সামনে বলা যাঁদের মতামত তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ, তাঁর কেরিয়ারের একটা ঘটনা। অথচ যিনি বলছেন তাঁর টের পাওয়ার মতো কোনো খরচই হয় না। শুধু অভিনন্দন নয়। বরং এর কাছাকাছি কিছু: লঞ্চের আগে আপনি যে অনবোর্ডিং প্রক্রিয়াটা নতুন করে গড়েছিলেন, ওই কারণেই সংখ্যাটা নড়েছে, আর আমি টিমকে সেটা বলেওছি।
এটা কোন দিকে কাজ করে তার প্রমাণও আছে। গ্র্যান্ট আর জিনো চারটি পরীক্ষায়, যার মধ্যে তহবিল সংগ্রাহকদের নিয়ে একটি মাঠপর্যায়ের গবেষণাও ছিল, দেখেছেন যে ধন্যবাদ পাওয়ার পর মানুষ পরে আরও বেশি সাহায্য করেছেন। আর এর পেছনের কারণটা নিজেকে বেশি সক্ষম মনে হওয়া নয়, সামাজিকভাবে মূল্যবান মনে হওয়া। স্বীকৃতি এমন একটা জিনিস যা আপনি বিনামূল্যে বিলিয়ে দিতে পারেন, আর তা বদলে দেয় মানুষ এরপর কী করবে।
KEEP CALM-এর প্রতিষ্ঠাতা কথাটা নিজের মতো করে বলেন। তিনি বলেন, তাঁর নিজের সাফল্যের একটা রহস্য ছিল আশপাশের মানুষকে শেখানো, পরামর্শ দেওয়া, তুলে ধরা, প্রশংসা করা আর তাঁদের হয়ে দাঁড়ানোর সুযোগ খুঁজে বেড়ানো। আর সেটা তিনি করেছেন ওঠার গোটা পথ জুড়ে, পৌঁছে যাওয়ার পরে নয়। তাঁর কথায়, যা ফিরে এসেছিল তা তিনি যা দিয়েছিলেন তার দশ গুণ। এটা তাঁর নিজের কেরিয়ারের বয়ান, কাউকে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার মতো কোনো নিয়ম নয়। যেটা নিয়ে কোনো তর্ক নেই তা হলো দাম, আর সেই দাম হলো ঠিক জায়গায় বলা একটা নির্দিষ্ট বাক্য।
তুলনা একটা হাতিয়ার, তাই হাতলটা ধরেই ধরুন
এর কোনোটাই আপনাকে কম চাইতে বা চোখ সরিয়ে নিতে বলছে না। যে সংস্করণটা আপনাকে আরও ভালো বানায়, সেটা ছোট আর নিখাদ যান্ত্রিক।
জিজ্ঞেস করুন আপনার জায়গায় থাকতে তাঁরা কী করতেন। একটামাত্র অভ্যাস নিয়ে এক মাস চালান। তাঁদের যে জিনিসটার পেছনে আপনি ছুটছেন না, তার নাম দিন। আর কাজটা নিয়েই তাঁদের একটা নির্দিষ্ট বাক্য পাঠান।
নিজের চেয়ে সামান্য এগিয়ে থাকা মানুষদের সঙ্গে বছরে তিন চারবার এটা করুন, আর গোড়ার কিছু জিনিস বদলে যাবে। আপনার হাতে এসে জমা হবে একটা পদ্ধতি, ইচ্ছে করে নেওয়া কিছু সিদ্ধান্ত যেগুলো এমনি এমনি ঘটে যায়নি, আর এগিয়ে থাকা অল্প কিছু মানুষ যাঁরা ঠিক জানেন আপনি কে। পাঁচ নম্বর বছরে গিয়ে এই শেষ জিনিসটার দাম তালিকার যেকোনো একটা অভ্যাসের চেয়ে অনেক বেশি।
সূত্র
- Psychological Bulletin, A social comparison theory meta-analysis 60+ years on
- Journal of Personality and Social Psychology, Superstars and Me: Predicting the Impact of Role Models on the Self
- Journal of Personality and Social Psychology, A little thanks goes a long way: Explaining why gratitude expressions motivate prosocial behavior